কোন তিনটি কাজ করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন?

 


আসসালামু আলাইকুম। কিয়ামতের সেই বিভীষিকাময় দিন, যেদিন আল্লাহর রহমত ছাড়া কারো কোনো গতি থাকবে না। অথচো,অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই কঠিন সময়েও তিন শ্রেণীর মানুষ এমন থাকবে, যাদের দিকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। বরং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"


প্রথম হাদিসের আলোকে:

হযরত আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— "তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না।" তারা হলো:

​১. মুসবিল: যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের পোশাক বা কাপড় পায়ের গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে রাখে।

২. মান্নান: যে ব্যক্তি কাউকে কিছু দান করার পর বারবার খোটা দেয় বা উপকার করে তা মনে করিয়ে দিয়ে কষ্ট দেয়।

৩. মুনফেকু সিলাআতিহি বিল হালফিকাযিব: যে ব্যবসায়ী মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করে।

রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: এক শত ছয়।


দ্বিতীয় হাদিসের আলোকে:

অন্য একটি বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও তিন শ্রেণীর দুর্ভাগা মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন:

​১. যানিউ শাইখ: অর্থাৎ সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি, যে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সত্ত্বেও ব্যভিচারে বা জেনায় লিপ্ত হয়।

২. মালিকুন কায্যাব: অর্থাৎ সেই শাসক বা রাজা, যে ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জনগণের সাথে মিথ্যা বলে।

৩. আইলুন মুস্তাকবির: অর্থাৎ সেই দরিদ্র ব্যক্তি, যার অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্তরে চরম অহংকার পোষণ করে।

রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং:এক শত সাত।


"হে আরশের মালিক! আমাদের এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করুন। আমাদের অন্তর থেকে অহংকার আর কর্ম থেকে প্রতারণা দূর করে দিন। কিয়ামতের কঠিন দিনে আমাদের ওপর আপনার রহমতের ছায়া দান করুন। আমীন।"

Previous Post Next Post